বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
রাজউকের দুর্নীতি আর ভিন্নাচারে ভূমি মালিকদের কঠোর প্রতিবাদ
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকার বিভিন্ন স্থানের ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাদের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করেছেন। তারা ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বাস্তবায়নে চলমান অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ড্যাপ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সংশোধনের জোর দাবি তুলেছেন।
ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২০ মে) এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় রাজউকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে তারা অবস্থান নেন এবং রাজউকের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দেন। ক্ষুব্ধ ভূমি মালিকদের সঙ্গে প্রকৌশলী, স্থপতি ও আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরাও এই প্রতিবাদে অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা জানান, যদি তাদের দাবি না মানা হয়, তাহলে তারা আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচি কর্মসূচি চালাবেন।
সাইদুর রহমান নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, “নতুন ড্যাপে ঢাকা শহরের ভবনের উচ্চতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে যা সিন্ডিকেটের ফলাফল। আমার বাড়ির পাশে ১০ তলা অনুমোদন থাকলেও আমাদের বাড়িতে দুই তলার পারমিশন দেওয়া হচ্ছে, এটা কখনো মানা হবে না।”
আরেক বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেন, রাজউক একই এলাকায় ভবন নির্মাণে বৈষম্য চালাচ্ছে যা দুর্নীতির পরিচয় বহন করে। তারা ভূমির মালিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নতুন আইন তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন। ২০২২ সালের ড্যাপ বাতিল করে ২০০৮ সালের ড্যাপ বাস্তবায়নের দাবিও তোলেন তারা, কারণ নতুন ড্যাপে বিশেষ করে অপরিকল্পিত এলাকায় অসঙ্গতি ও বৈষম্য রয়েছে।
রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার ড্যাপ বিধিমালা নিয়ে রাজউকে একটি জরুরি বৈঠক হয়েছিল। এ কারণেই কিছু মানুষ তাদের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিয়েছে। মূলত তাদের দাবি ড্যাপ বাতিল করা হলেও এর পেছনে আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রভাব রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী রেজাউল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “রাজউক জনস্বার্থের পরিপন্থী আইন প্রণয়ন করছে এবং অর্থের বিনিময়ে নকশা অনুমোদন দিচ্ছে। গুলশান ও বারিধারার জন্য এক ধরনের আইন আর অন্যান্য এলাকার জন্য ভিন্ন বিধান চলমান রয়েছে, যা ন্যায্য নয়।”
২০২২ সালের ২৪ আগস্ট গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) কার্যকর করার গেজেট প্রকাশ করে। গেজেটের পর থেকে আবাসন কোম্পানিগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিল। ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি ড্যাপ সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেখানে ভূমির ব্যবহার, সরকারি-বেসরকারি আবাসন, অপরিকল্পিত এলাকা, ব্লকভিত্তিক আবাসন, একত্রীভূত প্লটে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) বাড়ানো হয়েছে। এই সংশোধনে ভবনের প্রশস্ততা ও উচ্চতা বাড়ানোসহ সামনের সড়কের প্রশস্ততার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে।